লোকসভায় ঢুকে হলুদ রঙের গ্যাস ছোড়ে হামলাকারীরা। ছবি - এক্স

১৩ই ডিসেম্বর সংসদ ভবনে লোকসভা কক্ষে সংসদের নিরাপত্তা লঙ্ঘনে অভিযুক্ত পাঁচজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এরা ভারতের বিভিন্ন স্থানের বাসিন্দা। অভিযুক্ত সাগর শর্মা উত্তরপ্রদেশের লখনৌ, মনোরঞ্জন ডি কর্ণাটকের মাইসুর, নিলাম শর্মা হরিয়ানার জিন্দ, অমল ধনরাজ সিন্দে মহারাষ্ট্রের লাতুর, লালিত ঝা বিহারের। এক জায়গার বাসিন্দা না হলেও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এরা সবাই একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। এদের মধ্যে দুজন কলেজ স্নাতক, দুজন স্কুল পাস। দুজনের বয়স বিশের মাঝামাঝি, অন্য দুজনের বয়স ৩৪ ও ৩৭।

দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেল বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন, এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০B এবং ৪৫২ ধারার অধীনে মামলা নথিভুক্ত করেছে।

অভিযুক্ত নাম্বার ১ সাগর শর্মা তার পরিবারের সঙ্গে লখনৌয়ের আলমবাগ এলাকায় থাকে। তার বয়স ২৭ বছর ও আলমবাগের ভূপতি মেমোরিয়াল ইন্টার কলেজে ১২ শ্ৰেনী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। তার বাবা রোশন শর্মা একজন কাঠমিস্ত্রি। ২০২১ সালে সাগর একবার বেঙ্গালুরু যায়। এখন জীবিকা নির্বাহের জন্য ই- রিকশা চালায়। দুদিন আগে সে তার বাড়িতে বলে যায় যে একটি বিক্ষোভে যাচ্ছে। তার পরিচিত মহল থেকে জানা গেছে সাগর রাজনৈতিক আন্দোলনে খুব সক্রিয় ছিল এবং শহরের বিভিন্ন বিক্ষোভে তাকে দেখা যেত।

লখনৌ থেকে ৭০০ কিলোমিটার দূরে অভিযুক্ত নাম্বার ২ নিলাম শর্মা এর পরিবার হরিয়ানার জিন্দ গ্রামে থাকে। তার বাবা একজন ‘হালওয়াই’। বছর ৩৭ এর নিলাম একজন উচ্চ শিক্ষিত। হরিয়ানা শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও চাকুরি পেতে অসমর্থ হয়েছে। বর্তমানে নিলাম একটি লাইব্রেরী চালাতো। গত দু’বছর ধরে সে বিভিন্ন কেন্দ্র সরকার বিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। কৃষক আন্দোলন ও WFI সভাপতি ব্রিজ ভূষণ সারন সিং এর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে কুস্তিগীরদের বিক্ষোভে সে সামনে থেকে অংশগ্রহণ করেছিল। তাকে তার পরিবার এই সব কিছু থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করলেও নিলাম আন্দোলন থেকে সরে আসেনি।

সংসদের বাইরে নিলামের সাথে প্রতিবাদ করা অভিযুক্ত নাম্বার ৩ অমল ধনরাজ সিন্দে মহারাষ্ট্রের জারি গ্রামে থাকে। বছর ২৫ এর অমল ১২ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে ও পুলিশ, সেনাবাহিনীর চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তার বাবা দিনমজুরের কাজ করে। তার বাবা বলেছেন পরীক্ষার জন্য অমল মাঝে মাঝে দিল্লি যেত এবং গত কয়েক মাসে তিনবার রাজধানী গিয়েছিল।

অভিযুক্ত নাম্বার ৪ মনোরঞ্জন ডি মাইসুরে থাকে। হাসন জেলার মাল্লাপুর গ্রামে তার বাবা কৃষি কাজ করেন। মনোরঞ্জন বেঙ্গালুরুর একটি কলেজ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে। সে মাঝে মাঝেই বেঙ্গালুরু এবং দিল্লি যেতো বলে জানা গেছে। এই সপ্তাহের শুরুতে বাড়িতে কিছু না বলেই বেঙ্গালুরু যায়। মনোরঞ্জনই বিজেপি সংসদের অফিস থেকে সংসদ ভবনে ঢোকার ভিজিটার পাস জোগাড় করেছিল।

অভিযুক্ত নাম্বার ৫ বিশাল শর্মাকে গুরুগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিশাল শর্মা এই অভিযুক্ত চারজনকে ঘটনার আগের দিন রাতে আশ্রয় দিয়েছিল।

রাজধানী দিল্লিতে সংসদ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী অভিযুক্ত নাম্বার ৬ ললিত ঝা বর্তমানে পলাতক। রাজস্থানের নিমরানায় এর অবস্থান পাওয়া গেলে স্পেশাল সেলের দল নিমরানার গান্ডালা গ্রামে পৌঁছলে সেখান থেকে ললিত পালিয়ে যায়। ললিত ঝা একজন সমাজকর্মী হিসাবে পরিচিত। জানা গেছে, কলকাতার অনেক সামাজিক অনুষ্ঠানেও তাকে দেখা গেছে। সংবাদ সংস্থা ‘ইন্ডিয়া টুডে’এ প্রকাশিত খবর অনুযায়ী ললিতের অনেক এনজিওর সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, এর নিজস্ব একটি বিশাল নেটওয়ার্ক রয়েছে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রাম জেলায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *