মঙ্গলবার রাতে প্রবল বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর জল উপচে পড়ে NH-10 এর কিছু অংশ ভেসে যাওয়ায় রাজধানী গ্যাংটক সহ সিকিমের অন্যান্য অঞ্চলের সাথে দেশের সংযোগ মোটামুটি ভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উত্তর-পূর্ব সিকিমে লোনাক হ্রদে একটি মেঘ বিস্ফোরণ হয় যার ফলে লাচেন উপত্যকায় তিস্তা নদীর জল উদ্বেগজনক স্তরে পৌঁছেছে ।

গ্যাংটক জেলা প্রশাসন সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছে, “গ্যাংটক থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে সিংটাম শহরের ইন্দ্রেনি ব্রিজ তিস্তা নদীর জলে ভেসে গেছে ভোর ৪টার দিকে।”

সিকিমের উত্তর ও পূর্ব জেলায় আকস্মিক বন্যার যে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল তাতে বলা হয়েছে “গাজলডোবা, দোমোহনী, মেখলিগঞ্জ এবং ঘিশের মতো নিচু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনুগ্রহ করে সতর্ক থাকুন,”।সিকিমের কিছু অংশে গতকাল রাত থেকে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং সিংতাম সফরে যাওয়ার সময় বলেছেন “কেউ আহত হয়নি তবে সরকারি সম্পত্তির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। কিছু লোক নিখোঁজ হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। ত্রাণ তৎপরতা চলছে”।

সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চুংথাং বাঁধ থেকে জল ছাড়ার ফলে জলস্তর হঠাৎ করে ১৫-২০ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। “এর ফলে সিংটামের কাছে বারডাং-এ পার্ক করা সেনা গাড়িগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২৩ জন কর্মী নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং কিছু যানবাহন স্লাশের নিচে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।”

পাকিয়ং, গ্যাংটক, নামচি এবং মাঙ্গান জেলার সমস্ত সরকারী এবং বেসরকারী স্কুলগুলি ৮ অক্টোবর, ২০২৩ পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং তার এক্স বার্তায় বলেছেন “আমি বিনীতভাবে আমাদের সকল নাগরিককে এই সংকটময় সময়ে সতর্ক থাকার ও অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করছি। এটা অত্যাবশ্যক যে আমরা আমাদের সংযম বজায় রাখি এবং আমাদের অঞ্চল যাতে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে তা আশা করি।”

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সিকিমের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সিকিম সরকারকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

“আমি উত্তরবঙ্গের সকল সংশ্লিষ্টদেরও অনুরোধ করছি দুর্যোগ প্রতিরোধে বর্তমান মরসুমে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার জন্য। ইতিমধ্যেই আমার মুখ্য সচিবকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতির ব্যবস্থা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সমন্বয় করতে বলেছি। কালিম্পং, দার্জিলিং জেলায় লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এবং জলপাইগুড়ি নিরাপদ স্থানে। রাজ্যের সিনিয়র মন্ত্রী এবং সিনিয়র আইএএস অফিসারদের উদ্ধার ও ত্রাণ তদারকির জন্য উত্তরবঙ্গে পাঠানো হয়েছে। এই মারাত্মক বিপর্যয়ে যাতে কোনও প্রাণহানি না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে,” মমতা ব্যানার্জি টুইট করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *