“BlueBird-২” লঞ্চ: আজ ISRO-এর ‘বাহুবলী’ রকেট LVM3-M6 এর সফল উৎক্ষেপণ হল।

আজ ISRO-এর ‘বাহুবলী’ রকেট LVM3-M6 এর সফল উৎক্ষেপণ হল। এটি ISRO- এর একটি বড় সাফল্য। শ্রীহরিকোটার সতীশ ধবন স্পেস সেন্টার থেকে আজ ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ৮:৫৫ মিনিটে (ভারতীয় সময়) LVM3-M6 রকেট উড়ে গেল। এই রকেটের সাথে যুক্ত ছিল সিঙ্গাপুরের স্টারট্র্যাকার কোম্পানির “BlueBird-২” স্যাটেলাইট। রকেটটি সফলভাবে স্যাটেলাইট টিকে মহাকাশে পৌঁছে দিয়েছে। এই সফল উৎক্ষেপণের পর ভারত তার মহাকাশ বিজ্ঞানের শক্তি বিশ্বের দরবারে আরেকবার প্রমাণ করলো।

LVM3 কে কেন ‘বাহুবলী’ বলা হয়?

LVM3 হলো ISRO-এর সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট। এটি ৪ টনের ওজনের বড় স্যাটেলাইটকে মহাকাশে নিয়ে যেতে পারে। রকেটের লম্বা ৪৩ মিটার আর ওজন ৬৪০ টন। নিচের অংশে দুটো শক্তিশালী বুস্টার আর তরল জ্বালানির ইঞ্জিন থাকে। আজকের লঞ্চ ছিল ISRO এর সফল লঞ্চ মিশন নম্বর ৩৭। রকেট ২৬ মিনিটে স্যাটেলাইটকে সঠিক জায়গায় পৌঁছে দেয়। এতে ISRO -র ২০২৫ সালে তার ১০০তম লঞ্চের কাছে পৌঁছে গেল। চন্দ্রযান-৩ বা আদিত্যের মতো সাফল্যের পর এটি আরও একটি বড় খবর।

“BlueBird-২” কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

“BlueBird-২” হল সিঙ্গাপুরের প্রথম বড় বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট। এর ওজন ৪.১ টন। এতে অনেক যোগাযোগ যন্ত্র আছে, যা এশিয়া-প্যাসিফিকের ১০টা দেশে ফাস্ট ইন্টারনেট, টিভি আর ডেটা পরিষেবায় সাহায্য করবে। এটি ৫জি নেটওয়ার্কের উন্নত পরিষেবা প্রদান করার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে । স্টারট্র্যাকারের  বস ডেভিড বলেছেন, “ISRO-এর সাহায্যে আমরা এশিয়ায় ডিজিটাল পরিবর্তন আনব।” এই লঞ্চ ভারত-সিঙ্গাপুরের বন্ধুত্বকে এক নতুন মাত্রা দিল।

 ISRO-এর চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন বলেছেন, “আমি অত্যন্ত আনন্দের সাথে ঘোষণা করছি যে LVM3-M6 উৎক্ষেপণ যানটি সফলভাবে এবং সঠিকভাবে ব্লুবার্ড ব্লক-২ যোগাযোগ উপগ্রহকে নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপন করেছে।”নারায়ণন আরও বলেন, “এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রাহক AST SpaceMobile-এর জন্য প্রথম নিবেদিতপ্রাণ বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ । এটি শ্রীহরিকোটা থেকে আমাদের ১০৪তম উৎক্ষেপণ। এছাড়াও, LVM থ্রি লঞ্চ ভেহিকেলের নবম সফল অভিযান যা তার ১০০ শতাংশ নির্ভরযোগ্যতা প্রদর্শন করে। এটিই প্রথমবারের মতো মাত্র ৫২ দিনের মধ্যে LVM3-এর পরপর দুটি অভিযান।”

প্রধানমন্ত্রী মোদী টুইট করে বললেন, “ISRO -এর জয় ভারতের গর্ব।”

 

 এলভিএম৩-এর দাম মাত্র ৭০-৮০ মিলিয়ন ডলার, যেটি  অন্য রকেটের চেয়ে অনেক কম। ভবিষ্যতে নতুন রকেট LVM4 আর এনজিপিপি আসবে। গগণযান, শুক্রযানের সাথে ব্যবসা বাড়বে। আশা করা যাচ্ছে ২০৩০ নাগাদ ভারতের মহাকাশ ব্যবসা ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত খুবই শীঘ্র এশিয়ার মহাকাশ গবেষণার কেন্দ্রে পরিণত হবে।

প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ জয় করে এখন সফল LVM3। শুরু মোটেই সহজ ছিল না। ২০১৪-এ প্রথম উৎক্ষেপণ সফল হয়। ২০২১-এ একটু সমস্যা দেখা দেয় , কিন্তু ISRO -এর মহাকাশ বিজ্ঞানীরা খুব তাড়াতাড়ি সেই সমস্যার সঠিক সমাধান করে ফেলেন। এখন LVM3 ১০০% সফল। সিঙ্গাপুরের সাথে ব্লুবার্ড-১-এর পর ISRO -এর এটি দ্বিতীয় উৎক্ষেপণ।  

Exit mobile version