ডেবিট কার্ড বা পাসওয়ার্ড ছাড়াই আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উধাও হয়ে যেতে পারে।
কর্ণাটক পুলিশ জানিয়েছে , Aadhaar Enabled Payment System , AEPS জালিয়াতি ঘটনাটি তখন প্রকাশ্যে আসে যখন বেঙ্গালুরুর বসন্তনগরের বাসিন্দা সুনিতা রবিকুমার তার অ্যাকাউন্ট থেকে ৬ এবং ৭ সেপ্টেম্বর প্রতিদিন ১০০০০ টাকা করে মোট ২০০০০ টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে বলে বুঝতে পারেন। সুনিতা সন্দেহজনক ভাবে টাকা তোলার বিষয়ে জানতে ইউনিয়ন ব্যাঙ্কের শাখায় যান এবং এই জালিয়াতির বিষয়টি তুলে ধরে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশের মতে, অপরাধীরা সুনিতার বায়োমেট্রিক্স ব্যবহার করেছিল। তদন্তে থাকা অফিসাররা নিশ্চিত করেছেন, অভিযোগ কারীর সম্মতি ছাড়াই তার অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে।
জানা যায় সুনিতা সম্প্রতি দাভানাগেরে একটি সম্পত্তি বিক্রি করার সময় তার বায়োমেট্রিক তথ্য শেয়ার করেছিলেন।
আধার সক্ষম পেমেন্ট সিস্টেম (AEPS ) হল একটি প্রযুক্তি যা একজন ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টকে তার আধার অ্যাকাউন্টের সাথে লিঙ্ক করে। এই সিস্টেম ব্যবহার করে আমরা বায়োমেট্রিক এর সাহায্যে ব্যাংকে লেনদেন করতে পারি। সাইবার অপরাধীরা AEPS প্রযুক্তির সাহায্যে নিয়ে আপনার বায়োমেট্রিক্স ব্যবহার করে অবৈধভাবে আপনার ব্যাংক একাউন্টে গচ্ছিত অর্থ ফাঁকা করে দিতে পারে।
সাইবার অপরাধীরা বিভিন্ন জায়গায় এইভাবে বিভিন্ন মানুষকে প্রতারিত করছে।
https://twitter.com/KPDetectiveDept/status/1702991733171134969
আজ Jt CP Crime, kolkata এর এক্স হ্যান্ডেল থেকে সাধারণ মানুষের কাছে এ বিষয় কিছু সচেতনতা নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে ।
AEPS জালিয়াতি প্রতিরোধের জন্য করণীয় বিষয়-
➡ অনুগ্রহ করে এম-আধার নামের আপটি ইন্সটল করুন। অ্যাপটি ইনস্টল করার পর ‘বায়োমেট্রিক লক’ অপশনে যান । ওখানে বায়োমেট্রিক লক করা যায় এবং এভাবে এর অপব্যবহার রোধ করতে পারি।
➡ যদি প্রতারিত হয়ে যান এবং আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কাটা যায় , অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কে যান এবং টাকা ফেরতের জন্য ২৪ ঘন্টার মধ্যে অভিযোগ করুন ।
➡ যদি টাকা কাটার মেসেজ পান এবং জালিয়াতি লেনদেন লক্ষ্য করেন তাহলে স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে যান এবং সেখানে অভিযোগ দায়ের করুন।
➡ যদি জালিয়াতি ইতিমধ্যেই ঘটেছে, অনুগ্রহ করে নিকটস্থ ATM-এ যান এবং একটি মিনি স্টেটমেন্ট নিন যা গ্রাহকের ভৌগলিক অবস্থান নিশ্চিত করবে এবং প্রমাণ করবে গ্রাহক CSP-এ উপস্থিত ছিলেন না যেখানে AEPS অ-স্বীকৃত লেনদেন হয়েছিল।
➡ KYC জমা দেওয়ার সময় অনুগ্রহ করে আধার নম্বরটির শেষ চারটি সংখ্যা দৃশ্যমান রেখে বাকি নাম্বার গুলি ঢেকে দিন।
AEPS জালিয়াতি প্রতিরোধ করার জন্য যেগুলি করবেন না –
➡ আধার নাম্বারের প্রথম আটটা নাম্বার না ঢাকা অবস্থায় কাউকে দেবেন না বা কেওয়াইসি (KYC ) নথি হিসাবে শেয়ার করবেন না।
➡ কোনো অস্বীকৃত ব্যক্তি বা এই জাতীয় কোনো স্থানে বায়োমেট্রিক প্রদান করবেন না।
➡ আপনি যদি টাকা তোলার জন্য AEPS লেনদেন ব্যবহার করতে ইচ্ছুক না হন তবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সাথে আপনার আধার লিঙ্ক করবেন না।
➡ কারণ যাচাই না করে কোনো প্ল্যাটফর্মে একাধিকবার বায়োমেট্রিক প্রদান করবেন না।
➡ AEPS লেনদেন করার সময় তৈলাক্ত বা ভেজা আঙুল ব্যবহার করবেন না।
