পুরো নেপাল জুড়ে সাধারণ মানুষ পথে নেমেছে। হিন্দু রাষ্ট্র ও রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ।

প্রতিবেশী নেপালে অস্থিরতার কারণ চীনা হস্তক্ষেপ । এই সপ্তাহের শুরুতে, পুলিশ নেপালের প্রাক্তন রাজার হাজার হাজার সমর্থককে থামাতে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে।

 বিক্ষোভকারীরা, জাতীয় পতাকা নেড়ে এবং প্রাক্তন রাজা জ্ঞানেন্দ্রকে সমর্থন করে স্লোগান দেয়, “আমরা আমাদের রাজা ও দেশকে আমাদের জীবনের চেয়ে বেশি ভালবাসি। ফিরিয়ে আনো রাজতন্ত্র। শেষ করো প্রজাতন্ত্র।”

রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিবিদদের দুর্নীতির কারণে স্থানীয় জনগণ ও জনসাধারণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অর্থ উপার্জনের জন্য তাদের চীনে যেতে বাধ্য হতে হচ্ছে। স্থানীয় জনসাধারণ চায় নেপাল একটি হিন্দু রাষ্ট্র রূপে তাদের রাজার নিয়ন্ত্রণে থাকুক।

২০০৬ সালে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভের কারণে তৎকালীন রাজা জ্ঞানেন্দ্র তার শাসন পরিত্যাগ করতে এবং গণতন্ত্র চালু করতে বাধ্য হয় ।

দুই বছর পর, ২৮ শে মে, ২০০৮ সালে, নবনির্বাচিত সংসদীয় পরিষদ ২৪০ বছরের রাজতন্ত্রের বিলুপ্ত ঘটিয়ে নেপালকে ফেডারেল ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক হিসেবে ঘোষণা করে। রাজতন্ত্রের এই বিলুপ্তি বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠদের ভোটের মাধ্যমে সংগঠিত হয়েছিল। সমাবেশে উপস্থিত  ৫৬৪ জন সদস্যের মধ্যে ৫৬০ জন রাজতন্ত্রের অবলুপ্তির পক্ষে ভোট দেয়। শুধুমাত্র ৪ জন সদস্য এটির বিরুদ্ধে ভোট দেয়। ১১ ই জুন, ২০০৮ সালে প্রাক্তন রাজা জ্ঞানেন্দ্র প্রাসাদ ছেড়ে চলে যান।

নেপাল কংগ্রেসের রাম বরণ যাদব ফেডারেল ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিকের প্রথম রাষ্ট্রপতি হন। একইভাবে, সংসদীয় পরিষদ, ইউনিফায়েড কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (মাওবাদী) -এর পুষ্প কমল দহল ( প্রচণ্ড নামে যিনি পরিচিত)  ১৫ই আগস্ট ২০০৮ সালে প্রথম রিপাবলিকান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন।

তারপর থেকে, জ্ঞানেন্দ্র কোনও ক্ষমতা বা রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ছাড়াই সাধারণ নাগরিক হিসাবে জীবনযাপন করছেন। এখনও জনগণের মধ্যে তার কিছুটা সমর্থন রয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা নেপালকে হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করার দাবি জানাচ্ছে । ২০০৭ সালে একটি অন্তর্বর্তী সংবিধান দ্বারা এই হিন্দু রাষ্ট্রটিকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ঘোষণা করা হয়েছিল। চীন সমর্থিত গণতন্ত্রকে উৎখাত করতে ও হিন্দু রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে নেপালে এই ব্যাপক বিক্ষোভ ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *