শুক্রবার মুম্বাই ট্রান্স হারবার লিঙ্ক (MTHL), সমুদ্রের উপর তৈরি হওয়া ‘অটল সেতু’র উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অটল বিহারী বাজপেয়ীর নামাঙ্কিত ‘অটল সেতু’ প্রায় ১৭৮৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে। এটি ভারতের দীর্ঘতম সেতু ( দেশের দীর্ঘতম সমুদ্র সেতু ) এবং বিশ্বের ১২ তম দীর্ঘতম সেতু। এটা উদ্বোধনের পর আজ প্রধানমন্ত্রী মোদী ৩০৫০০ কোটি টাকার একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ।
দক্ষিণ মুম্বাই থেকে নভি মুম্বাই ( সেউরি এবং নাভা শেভার মধ্যে ) সংযোগকারী ২১.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সেতুটি বর্তমান ২ ঘণ্টার যাত্রা এখন মাত্র ১৫-২০ মিনিটে কমিয়ে দেবে। দক্ষিণ মুম্বাইয়ের সেউরি থেকে শুরু করে সেতুটি থানে ক্রিক দিয়ে গিয়ে শেষ হবে নাভা শেভার কাছে চিরলে গ্রামে।
২০১৬ সালের ডিসেম্বরে সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।
মুম্বাই ট্রান্স হারবার লিঙ্ক সম্পর্কে সমস্ত কিছু
- মোট ১৭৮৪০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে ‘অটল সেতু’ তৈরি করা হয়েছে।
- এটি প্রায় ২১.৮ কিমি দীর্ঘ। যার মধ্যে সমুদ্রের উপর প্রায় ১৬.৫ কিমি এবং স্থলভাগে প্রায় ৫.৫ কিমি। সেতুটি ছয় লেনের।
- সেতুটির লক্ষ্য মুম্বাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং নভি মুম্বাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উভয়ের সাথে সংযোগ আরও উন্নত করা।
- এই সেতুর জন্য মুম্বাই থেকে পুনে, গোয়া এবং দক্ষিণ ভারতে ভ্রমণের সময় হ্রাস পাবে । উপরন্তু, এটি মুম্বাই বন্দর এবং জওহরলাল নেহরু বন্দরের সংযোগে উন্নতি করবে।
- মুম্বাই পুলিশ এই সেতুর ওপর যান বাহানের গতি নিয়ন্ত্রত করেছে। সমুদ্র সেতুতে মোটরবাইক, অটোরিকশা, ট্রাক্টর চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।
- গাড়ি, ট্যাক্সি, হালকা মোটর যান, মিনিবাসের গতিসীমা প্রতি ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার হবে। তবে সেতুর আরোহণ ও নামার সময় গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।
ভ্রমণের খরচ
এই সেতুতে চলাচলের জন্য বিভিন্ন রকম ফি-এর ব্যবস্থা আছে। সিঙ্গেল জার্নি, রিটার্ন জার্নি, ডেইলি পাস ও মান্থলি পাস এর ব্যবস্থা থাকবে। ছোট গাড়ীর (Car) জন্য সিঙ্গেল জার্নিতে ২৫০ টাকা, রিটান জার্নিতে ৩৭৫ টাকা, ডেইলি পাসে ৬২৫ টাকা ও মান্থলি পাসে ১২,৫০০ টাকা রাখা হয়েছে।
‘অটল সেতু’ মুম্বাইয়ের সবচেয়ে ব্যয়বহুল টোল রোড। তুলনামূলকভাবে, বান্দ্রা-ওরলি সী-লিংকের সিঙ্গেল জার্নির জন্য লাগে ৮৫ টাকা এবং রিটার্ন জার্নিতে লাগে ১২৭ টাকা।
MTHL নির্মাণ প্রকল্পটি ১৯৬০ এর গোড়ার দিকে নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে বিভিন্ন বাধার কারণে নির্মাণ পরিকল্পনাটি সেসময় বাস্তবায়িত হতে পারেনি।
২০১৭ সালে, মহারাষ্ট্র সরকার মুম্বাই মেট্রোপলিটন রিজিওন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এমএমআরডিএ) কে সেতুটি নির্মাণের দায়িত্ব দেয়। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি থেকে প্রায় ১৮০০০ কোটি টাকার সরকারী উন্নয়ন ঋণের সহায়তায় প্রকল্পটি তৈরী হয়েছে।
